সৌরভ লোধ ||
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা চলতি বছরে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। যার ছোঁয়া লেগেছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবেও।এবারের ঈদকে ঘিরে বরুড়াজুড়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক আমেজ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই অর্জনকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন করেছে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি চলছে আলোচনা সভা, মিলনমেলা এবং উন্নয়ন ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখার প্রত্যয়।
স্থানীয়দের মতে, বরুড়া থেকে প্রথম মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধেছেন তারা। অনেকেই মনে করছেন, এই অর্জন বরুড়ার জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে বাজার, বিপণিবিতান ও গ্রামাঞ্চলেও ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। নতুন পোশাক কেনা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি মানুষ তাদের এই অর্জন নিয়েও গর্ব প্রকাশ করছেন।
খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষক আবদুল সালাম বলেন,বরুড়া থেকে প্রথম মন্ত্রী পাওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা কৃষকরা আশা করি, এখন আমাদের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে, সেচ ও সারসহ কৃষি খাতে আরও সহযোগিতা বাড়বে। এই ঈদটা তাই আমাদের কাছে একটু অন্যরকম আনন্দের।
লক্ষীপুর ইউনিয়নের বাড়ি ফেরা এক প্রবাসী জানান,বিগত সময় নানা কারণে দেশে ফিরতে পারিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারছি। নিজের মাটিতে ঈদের আনন্দই আলাদা, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
ভাউকসার গ্রামের রিকশাচালক জাকির হোসেন বলেন,আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই অর্জন অনেক বড় বিষয়। আমরা চাই, নতুন মন্ত্রীর হাত ধরে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভালো হবে, কাজের সুযোগ বাড়বে। তাহলে জীবনটা একটু সহজ হবে। এই আশাতেই ঈদটা আনন্দের সঙ্গে কাটাচ্ছি।
এদিকে বরুড়ার কৃতী সন্তান ও নবনিযুক্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় দেশবাসীসহ বরুড়াবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বার্তায় ঈদের চেতনা থেকে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, বরুড়ার মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।তাঁর প্রত্যাশা ঈদের আনন্দ সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নতুন সম্ভাবনার বার্তা বয়ে আনুক।
