সৌরভ লোধ ||
বিকেলে যে মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছে একঝাঁক শিশু-কিশোর, রাত পোহাতেই সেখানে থৈ থৈ করছে মেঘনার পানি। চাঁদপুর হাইমচরের চরভৈরবীতে রাতে বালুখেকো চক্রের তাণ্ডবে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক একর চরের জমি। এতে নদী রক্ষা বাঁধ তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় জব্দ করা হয়েছে ড্রেজার ও বাল্কহেড এবং আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ১নং গাজীনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর বালিচর এখন গভীর গর্ত ও পানির নিচে।স্থানীয় বাসিন্দা দুদু রাঁড়ী, জয়নাল আবেদীন রাঁড়ী ও আবুল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, আশপাশে খালি জায়গা না থাকায় এই বালিচরটিই ছিল আমাদের সন্তানদের খেলার একমাত্র মাঠ। বিকেলেও এখানে ফুটবল খেলা হয়েছে। সকালে এসে দেখি সব শেষ। প্রভাবশালী বালুখেকোরা আমাদের স্বপ্নগুলো নদীগর্ভে ডুবিয়ে দিয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ইউএনও জানান, বালু উত্তোলনের অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে একটি ড্রেজার ও একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাঁধের ঝুঁকি কমাতে তাৎক্ষণিকভাবে স্টকে থাকা ব্লক ফেলে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাজুল ইসলাম শফিক বলেন, বালুখেকোদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারা নদী রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তারা যে দলেরই ছত্রছায়ায় থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচার করতে হবে। নতুবা পুরো হাইমচর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। তারা হলেন— আব্দুল কাদের (২২), মো. আইয়ুব আলী (২০), মো. আমান উল্যাহ (১৯), মো. মোরশালিন (১৯), মো. শফিকুল ইসলাম (২৩), দেলোয়ার মিজি (৪৪) ও মনির হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৫)।
